মহাদেবের আরাধনা : দেবলোকের কাহিনী
মহাদেবের আরাধনা। দেবাদিদেবকে তুষ্ট করতে আয়োজন । এ বছর ৮ মার্চ পড়েছে মহাশিবরাত্রি। শাস্ত্রীয় পন্ডিতরা বলছেন, শিবলিঙ্গে জলাভিষেক করার বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। মহাদেবেরএই পুজোতে বা শিবলিঙ্গে জল ঢালার নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বিধি রয়েছে। পূর্ব দিকে মুখ করে বসার নির্দেশ নেই । কারণ হিসেবে বলা হয়, পূর্ব দিকে মহাদেবের প্রবেশ পথ। সেই পথে বাধার সৃষ্টি করা ঠিক নয়। আবার শিবলিঙ্গে জল ঢালার সময় মুখ যেন উত্তরমুখী না থাকে। শাস্ত্রীয় পন্ডিতরা আরও বলছেন, স্টিলের পাত্রে মহাদেবকে জল অর্পণ করা উচিত নয়। তামার কলস অথবা রুপো বা ব্রোঞ্জের পাত্রে শিবলিঙ্গে জল ঢালা উচিত। সেক্ষেত্রে ডান হাতে পাত্র ধরে শিবলিঙ্গে জল দেওয়া উচিত। আর বাম হাতটি যেন আপনার ডান হাতকে স্পর্শ করে থাকে। জল ঢালার সময় মন্ত্র –“ওম নমঃ শিবায়” । মহাশিবরাত্রিতে শিবভক্তরা মন্দিরে গিয়ে শিবের আরাধনা করে থাকেন ।
দেবলোকে শিব-দুর্গার কলহের কথা প্রচলিত রয়েছে। একটি প্রচলিত কথা-কাহিনীও শোনা যায়। বিবাদের জেরে দুর্গা জগতের সব অন্ন হরণ করে কাশিতে আশ্রয় গ্রহণ করলেন। জগতে সবার ঘরে তখন অন্ন শূন্য। খাদ্যাভাব দেখা দিল চরমে। শিব ভিক্ষা চেয়ে ও ক্ষুধায় ক্লান্ত হলেন। এরপর দেবী লক্ষ্মী তাঁকে কাশীধামে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। তখন শিব দেবী অন্নপূর্ণার দেখা পেলেন। ভিক্ষার পাত্র হাতে মা অন্নপূর্ণার কাছে দাঁড়াতেই শিবকে ভিক্ষা নিবেদন করলেন। অন্নপূর্ণার কাছে সেই ভিক্ষা নিয়েই বিশ্ব সংসারের মানুষের খাদ্য বিতরণ করলেন। এরপর থেকে পৃথিবীতে খাদ্য ও জলের অভাব আর কখনও হয়নি। ত্রিভুবনের সকলে তাঁর কাছেই নত থাকেন।

